Saturday, November 30, 2024

Football Fandom in Bengal: Mohon Bagan vs. East Bengal rivalry.

 বাংলার ফুটবল উন্মাদনা: মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ভূমিকা
বাংলার ফুটবল মানে আবেগ, উন্মাদনা, এবং দুই কিংবদন্তি দলের চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা – মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল। এই দুই ক্লাব শুধু ফুটবল দলের চেয়ে বেশি; এটি বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানে ফুটবল মানে খেলার চেয়েও বেশি, এটি গর্বের লড়াই। আজ আমরা জানব মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল দ্বৈরথের ইতিহাস, সাফল্য, এবং অনুরাগীদের পাগলামি।
মোহনবাগানের ইতিহাস

মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৯ সালে। এটি শুধুমাত্র একটি ফুটবল ক্লাব নয়, ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রামের এক প্রতীক। ১৯১১ সালে মোহনবাগান ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জিতে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ দলকে হারায়, যা ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা ছিল। সেই দিনের পর থেকে মোহনবাগান হয়ে ওঠে প্রতিটি বাঙালির গর্ব।মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবটি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত একটি পেশাদার ফুটবল ক্লাব। ক্লাবটি ১৮৮৯ সালে মোহনবাগান স্পোর্টিং ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি ভারত ও এশিয়ার প্রাচীনতম ক্লাবগুলোর মধ্যে একটি।১৯১১ সালে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের বিপক্ষে জয় ক্লাবটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। সর্ব ভারতীয় পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম মোহনবাগান ব্রিটিশ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চ্যাম্পিয়নশিপ জয়লাভ করেছে এবং এই জয় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল। মোহনবাগান ১৯৯৬ সালে ভারতের প্রথম ঘরোয়া লীগ জাতীয় ফুটবল লিগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।মোহনবাগান পাঁচটি শিরোপা জয় করে, যার মধ্যে তিনটি এনএফএল এবং দুটি আই-লিগ শিরোপা রয়েছে।ক্লাবটি ভারতের প্রাক্তন ঘরোয়া কাপ প্রতিযোগিতা ফেডারেশন কাপের সবচেয়ে সফল ক্লাব, যারা সর্বমোট ১৪টি শিরোপা জয়লাভ করেছে। এছাড়াও ক্লাবটি স্থানীয় ৩০ বার কলকাতা ফুটবল লিগের শিরোপা জয়লাভ করেছে।২০২২-২৩ সালে দলটি প্রথম বারের মতো আই এস এল প্লে অফ বিজয়ী হয়।
ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস

ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের জন্ম ১৯২০ সালে। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের আবেগ এবং গর্ব ছিল এই ক্লাব। এই দল একদিকে পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করেছে, অন্যদিকে বাংলার ফুটবলের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের "লাল-হলুদ" রঙ তার সমর্থকদের হৃদয়ে চিরকালীন জায়গা করে নিয়েছে।
২৮ শে জুলাই ১৯২০ সালে কোচবিহার কাপের একটি ম্যাচে মোহনবাগান ও জোড়াবাগান ক্লাব পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। সেই ম্যাচে জোড়াবাগান অন্তিম দলে এক অজানা কারণে তাদের ডিফেন্ডার শৈলেশ বসুকে না নিয়েই মাঠে টিম নামায়। দলের তৎকালীন সহ-সভাপতি সুরেশ চৌধুরী দলের কর্মকর্তাদের কাছে শৈলেশ বসুকে দলে না নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করেন এবং শৈলেশ বসুকে দলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তার কথা রাখা হয়নি। তিনি ও শৈলেশ বসু বুঝতে পারেন শৈলেশ বসু পূর্ববঙ্গীয় হওয়ার কারণেই বিদ্বেষ বসতই তাকে দলে নেওয়া হয় নি। এরপরই সুরেশ চৌধুরী, রাজা মন্মথ নাথ চৌধুরী, রমেশ চন্দ্র সেন, অরবিন্দ ঘোষকে নিয়ে ক্লাব ত্যাগ করেন এবং বাঙাল (পূর্ববঙ্গীয়) ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিয়ে তিনদিনের মধ্যে ১লা আগষ্ট ১৯২০ সালে ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক ক্লাব হিসাবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন।

সারদারঞ্জন রায় নব প্রতিষ্ঠিত ক্লাবের প্রথম সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, অন্যদিকে সুরেশ চন্দ্র চৌধুরী ও তড়িৎ ভূষণ রায় ক্লাবের প্রথম যুগ্ম-সম্পাদকের পদ গ্রহণ করেন। নগেন কালী, এম. তালুকদার, বি. সেন, এন. গোঁসাই, গোষ্ঠ পাল, পি. বর্ধন, এস. ঠাকুর, জে. মুখার্জী, রমেশ চন্দ্র সেন, এস. বসু, সি. বসু, এ. রায় এবং এ. ব্যানার্জী ক্লাবের প্রথম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ভারতের কলকাতাস্থিত, শতবর্ষ প্রাচীন পেশাদার ফুটবল ক্লাব (প্রধানত), এছাড়াও অন্যান্য ক্রিয়া বিভাগে ক্লাবটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। পূর্ববঙ্গের বাঙালি জাতির ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিয়ে ১৯২০ সালের ১লা আগষ্ট সুরেশচন্দ্র চৌধুরী জোড়াবাগানের নিমতলা ঘাট স্ট্রিটের তার বাড়িতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২২ সালে ভারতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভ্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ১৯২৪ সালে কলকাতা ফুটবল লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ১৯৪২ সালে সর্বপ্রথম লীগ জয় লাভ করে এবং বর্তমানে রেকর্ড সংখ্যক ৩৯টি লীগ জয় করে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে। ইস্টবেঙ্গল জাতীয় লিগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং তিন বার জাতীয় লিগ জয় করেছে। এছাড়াও ৮ বার ফেডারেশন কাপ, তিনবার সুপার কাপ, রেকর্ড সংখ্যক ২৯ বার আইএফএ শিল্ড ও রেকর্ড সংখ্যক ১৬ বার ডুরান্ড কাপ জয় করেছে।
প্রথম ডার্বি: ইতিহাসের সূচনা

১৯২৫ সালে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল প্রথমবার মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচ থেকেই ডার্বির সূচনা। ম্যাচটি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল যে এটি দ্রুত বাংলার ফুটবলের পরিচয় হয়ে ওঠে।
প্রথম আনুষ্ঠানিক ডার্বি
সম্পাদনা
কলকাতা ফুটবল লিগ
২৮ মে ১৯২৫
১২:০০ আইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)
ইস্টবেঙ্গল ১–০ মোহনবাগান
নেপাল চক্রবর্তী গোল প্রতিবেদন 
ক্যালকাটা গ্রাউন্ড (বর্তমানে মোহনবাগান মাঠ), ক্যালকাটা
রেফারি: সি আর ক্লেটন

১৯২৫-এ প্রথমবার দুদল মুখোমুখি হয়েছিল৷ মোনা দত্তের নেতৃত্বে ১-০ ম্যাচ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল৷ নেপাল চক্রবর্তী একমাত্র গোলটি করে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ছিলেন৷

১৯৬০-এর দশকে মোহনবাগানের জন্য সুবর্ণ সময়টি প্রমাণিত হয় এবং এটি মারিনার জন্য নিখুঁতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিমধ্যে লিগ জেতার পর, মোহন বগনের তারপর আইএফএ শিল্ড ফাইনাল তাদের নিজস্ব মাঠে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত করে। ৩-১ গোলে উদ্দীপক কোচ অমল দত্তের নিয়োগে বিপ্লবী ৪-২-৪ গঠনের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
ডার্বি ম্যাচের বৈশিষ্ট্য

১. উন্মাদনা ও উত্তেজনা: প্রতিটি মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের দিন কলকাতা যেন ফুটবলের মক্কা হয়ে ওঠে।
২. সমর্থকদের পাগলামি: মোহনবাগানের "সবুজ-মেরুন" এবং ইস্টবেঙ্গলের "লাল-হলুদ" পতাকায় সেজে ওঠে পুরো শহর।
৩. স্টেডিয়ামের পরিবেশ: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কিংবা পূর্বের ময়দান, ভক্তদের চিৎকার আর ঢাকের শব্দ মাঠে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

ডার্বির পরিসংখ্যান

ম্যাচ সংখ্যা: ৩৫০+ (অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল মিলিয়ে)

মোহনবাগানের জয়: ১২০+

ইস্টবেঙ্গলের জয়: ১৩০+

ড্র: ১০০+

মাঠের বাইরের রাজনীতি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ডার্বির উত্তেজনা শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। দুই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক, এবং সাংস্কৃতিক মতাদর্শের লড়াই প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

১. পশ্চিমবঙ্গ বনাম পূর্ববঙ্গ: ইস্টবেঙ্গলকে পূর্ববঙ্গের ক্লাব হিসেবে এবং মোহনবাগানকে পশ্চিমবঙ্গের ক্লাব হিসেবে দেখা হয়।
২. অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতীক: মোহনবাগানকে অভিজাত এবং ইস্টবেঙ্গলকে উদ্বাস্তুদের ক্লাব হিসেবে মনে করা হয়।
ডার্বির আইকনিক মুহূর্ত

১. ১৯৭৫ আইএফএ শিল্ড ফাইনাল: ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানকে ৫-০ গোলে হারায়, যা এখনও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।
২. ১৯৯৭ ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনাল: ১ লক্ষ ৩১ হাজার দর্শক নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যাচ।
৩. ২০১৯ আই লিগ ডার্বি: ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের শেষ বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আই লিগে।
প্রতিবাদের ডার্বি: ফের একসঙ্গে আরজিকর কাণ্ডের প্রতিবাদে একসঙ্গে ঘটি বাঙাল

আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে উল্টোডাঙা থেকে হাডকো মোড় পর্যন্ত ‘মানববন্ধন’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। অনুরূপ কর্মসূচি ছিল রুবি মোড় থেকে বেলেঘাটা বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত।মাঠের লড়াই ভুলিয়ে দিয়েছিল আরজি করের ঘটনা। চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় বিচার চেয়ে এক সুরে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা। শনিবার যুবভারতীতে আইএসএলের ম্যাচে মোহন-ইস্ট দ্বৈরথ শুরু হওয়ার আগে প্রতিবাদের সেই যৌথবদ্ধ ছবি ফের ধরা পড়বে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। প্রতিবাদের সেই ছবি ধরা পড়লও। তবে স্থানীয়দের একাংশের কথায়, এ বার প্রতিবাদ তেমন জমল না। গত অগস্ট মাসে ডার্বি বাতিল পরবর্তী প্রতিবাদকে মাথায় রাখলে এই বৈপরীত্যটা চোখে পড়তে বাধ্য।আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে একাধিক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। উল্টোডাঙা থেকে হাডকো মোড় পর্যন্ত ‘মানববন্ধন’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। অনুরূপ কর্মসূচি ছিল রুবি মোড় থেকে বেলেঘাটা বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত। যুবভারতীর সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন সিনিয়র চিকিৎসকেরাও। খেলা শুরু আধ ঘণ্টা আগে অবশ্য দেখা গেল রুবি মোড়র ‘মানববন্ধন’ কর্মসূচিতে জনা দেড়শো লোক জড়ো হয়েছেন। লোকবলের অভাবেই পরিকল্পনা মোতাবেক কর্মসূচিটি যুবভারতী অবধি নিয়ে যাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।

উল্টোডাঙায় অবশ্য মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের কয়েক জন সমর্থককে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। সেখানে দুই দলের পতাকা নিয়ে কমবেশি ৫০ জন জড়ো হয়েছিলেন। বাইপাসের ধারে কয়েকটি ম্যাটাডরে কয়েক জন সমর্থককে ‘বিচার চাই’ শিরোনাম-সহ ব্যানার এবং টিফো হাতে দেখা যায়।সেই সময় ডার্বি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যের শাসকদলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছিল। শহরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সেই সময় বিধাননগর পুলিশের তরফে অবশ্য যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, বিভিন্ন জায়গায় এত পরিমাণে পুলিশকর্মী দেওয়া হয়েছে যে, ডার্বির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন সম্ভব নয়।
সমর্থকদের ভাষায় ফুটবল

মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তপ্ত তর্ক থেকে শুরু করে গালাগালি পর্যন্ত সবই ডার্বির আগে এবং পরে দেখা যায়। এ যেন বাংলার "এল ক্লাসিকো।"

ফুটবলের ভবিষ্যৎ: আইএসএল এবং নতুন প্রজন্ম

আইএসএল-এ মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের অংশগ্রহণ ডার্বির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নতুন প্রজন্মের সমর্থকরা এই দুই ক্লাবের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
উপসংহার

মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল ফুটবল নয়; এটি বাংলার আবেগ, সংস্কৃতি, এবং ইতিহাসের অঙ্গ। এই দুই ক্লাব ছাড়া বাংলা ফুটবলের কল্পনা করা অসম্ভব।

No comments:

Post a Comment

30th Kolkata International Film Festival: A Historic Celebration of Global Cinema

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩০তম সংস্করণ: এক ঐতিহাসিক যাত্রার অঙ্গন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF) এ বছর তার ৩০তম বর্ষে পদ...