ভূমিকা
বাঙালি বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের ভবিষ্যৎ মানে শুধু ‘ভাল চাকরি’ আর ‘নিরাপদ জীবন’। জীবনের প্রত্যেক ধাপে তাঁরা সন্তানের ‘মঙ্গল’ চান, তবে সেই মঙ্গলের সংজ্ঞা কখনো কখনো এমন মজার হয় যে, তা নিয়ে হাসির রোল পড়ে। বাবা-মায়ের ‘তুলনা’ রোগ, বিশেষ করে প্রতিবেশীর ছেলেমেয়ের সঙ্গে, বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আজকের এই আলোচনায় আমরা জানব বাঙালি অভিভাবকদের সেই চিরকালীন পেশাগত পরামর্শ আর তাদের মজার তুলনামূলক চিন্তাভাবনা।
চিরন্তন ক্যারিয়ার পরামর্শ
বাঙালি বাবা-মায়ের কাছে পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু চিরাচরিত আদর্শ পছন্দ থাকে। যেমন:
1. ডাক্তার হতেই হবে:
ডাক্তারি পেশা বাঙালির কাছে ‘সবচেয়ে নিরাপদ’ এবং ‘সম্মানজনক’ পেশা। বাড়ির বড়দের ভাষ্য, "ডাক্তার হলে কোনও দিন পেটের ভাত কমবে না।"
নিট পরীক্ষাতে পাস না করলে বাবা মা এর কথা সারা জীবন শোনার জন্যে প্রস্তুত হয়ে থাকতে হবে।ওনারা ভুলেই যাবেন যে আমরা পারিনি বলে আমাদের মানসিক অবস্থা কীরকম,কিন্তু বাবা মা সমাজে কি বলবে এই নিয়ে বেশি চিন্তিত।
2. ইঞ্জিনিয়ারিং না করলে জীবন বৃথা:
"তোমার পাশের বাড়ির মণি ছেলেটা আইআইটি পড়ছে, আর তুমি কি করবে? গল্প লিখে পেট চালাবে?" এমন কথা শুনতে শুনতে বাঙালি সন্তানদের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে হয়।পরীক্ষা খারাপ হলে আর IIT না পেলে তো আর রক্ষা নেই।
3. সরকারি চাকরি:
সরকারি চাকরির সোনার হরিণ ধরতে বাবা-মায়ের প্রাণপাত উৎসাহ। এই চাকরির সুবিধার তালিকা শুনলে বোঝা যায়, এটি বাঙালির কাছে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বাঙালি বাবা-মায়ের তুলনা ছাড়া সন্তানের পেশা নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ।
1. প্রতিবেশীর ছেলে-মেয়ে:
"ওদের ছেলে তো এখন ইউএসএ-তে চাকরি করছে। তুমি কী করছো?"
2. মামার ছেলে বা পিসির মেয়ে:
"তোমার মামার মেয়ে এমবিএ করছে, আর তুমি সারাদিন ফোনে ঝুলে আছো।"
আধুনিক যুগে পেশা নিয়ে চিন্তাভাবনা
যদিও আধুনিক বাবা-মা কিছুটা উদার মনোভাব পোষণ করছেন, কিন্তু এমন পেশা বেছে নিলে যা তাঁদের ধারার বাইরে, তখন শুরু হয় আরও মজার সব উপদেশ:
1. "ফটোগ্রাফি করে পেট চলবে?"
2. "লেখালিখি করে কেউ টাকা কামায়?"
3. "মডেলিং মানে ভবিষ্যৎ শেষ।"
মজার ঘটনা ও উদাহরণ
একটি ঘটনা:
"তোমার পাশের বাড়ির মেয়ে তো চাকরির পাশাপাশি সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর তুমি সারাদিন সিরিজ দেখে কাটাও।"
একটি বাচ্চার জবাব:
"আমি যেটা করতে ভালোবাসি সেটাই করব, আর প্রতিবেশীর মেয়ে আমার জীবন বাঁচাবে না।"
সামাজিক চাপ এবং মানসিক প্রভাব
এই তুলনা এবং চাপে পড়ে অনেক সন্তান নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী পেশা বেছে নিতে পারেন না। এর ফলে অনেক সময় মানসিক চাপ, হতাশা, এবং স্বপ্ন পূরণ না করার দুঃখ থেকে যায়।
বদলানো সময় ও বাবা-মায়ের মনোভাব
যদিও এখন অনেক বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের পছন্দকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, কিন্তু তবুও একটা বড় অংশ এখনও নিজেদের পুরনো চিন্তাধারার বাইরে আসতে পারেনি।
উপসংহার
বাঙালি বাবা-মায়ের পেশা নিয়ে পরামর্শ কখনও কৌতুকের, কখনও চাপের, আবার কখনও অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও তাঁদের উদ্দেশ্য ভালো, কিন্তু তাঁদের তুলনা রোগ আর কৌতূহল মাঝে মাঝে এতটাই মজার যে, তা নিয়ে হাসি চেপে রাখা যায় না।
No comments:
Post a Comment