Saturday, November 30, 2024

Bengali Minimalism: Embracing simple living with Bengali sensibilities.

বাংলা মিনিমালিজম: সহজ জীবনযাত্রার শিল্প

সূচনা
বাংলার ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির গভীরে লুকিয়ে আছে সহজ-সরল জীবনযাত্রার এক অসামান্য দর্শন। যুগে যুগে বাংলার মানুষ বৈচিত্র্যময় জীবনে আরাম খুঁজে পেয়েছে, তবে আধুনিক সময়ে সেই ঐতিহ্যকে মিশিয়ে দিয়েছে মিনিমালিজমের সঙ্গে। এটি কেবলমাত্র একটি জীবনধারা নয়; এটি একটি মানসিকতা, যা অতিরিক্ত উপকরণ ও অনর্থক ব্যয় ছেড়ে মানসম্পন্ন জীবনের প্রতি আকৃষ্ট করে।
বাংলা সংস্কৃতির সহজতার প্রতিফলন

. খাদ্যাভ্যাসে মিনিমালিজম

বাংলার রান্নায় মিনিমালিজমের নিদর্শন স্পষ্ট। সরল কিন্তু সুস্বাদু রান্নার মাধ্যমে বাংলার মানুষ তাদের রসনা তৃপ্ত করে।

উদাহরণস্বরূপ:
ভাত ডাল: বাঙালির খুব প্রিয় খাদ্য এটা।
সরষে ইলিশ: মাত্র কয়েকটি উপাদান দিয়ে তৈরি এক অবিস্মরণীয় পদ।
চিঁড়ে দই: গ্রামীণ বাংলার প্রাতঃরাশ, যা একই সঙ্গে পুষ্টিকর এবং সাশ্রয়ী।

২. পোশাকে সরলতা

বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক যেমন তাঁতের শাড়ি ও ফতুয়া, এই দর্শনের আদর্শ উদাহরণ। এগুলি কেবল আড়ম্বরহীন নয়, বরং আরামদায়ক এবং পরিবেশবান্ধব।

৩. স্থাপত্য এবং গৃহসজ্জায় মিনিমালিজম

বাংলার গ্রাম্য বাড়িগুলির সরলতা এবং পরিবেশের সঙ্গে মেলবন্ধন আধুনিক স্থাপত্যের জন্য এক নিখুঁত অনুপ্রেরণা। মাটির বাড়ি, খড়ের চালা, এবং প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি সজ্জা আধুনিক মিনিমালিস্ট গৃহসজ্জার পূর্বসূরি।

আধুনিক সময়ে বাংলা মিনিমালিজমের পুনরুত্থান

১. বই ও শিল্পে সংযম

বাঙালি সমাজে বই পড়ার অভ্যাস এবং মাটির গন্ধে মিশে থাকা শিল্পের প্রতি ভালোবাসা নতুন রূপে প্রকাশ পাচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় তথ্য বা অপচয় ছেড়ে, তারা গভীর এবং অর্থপূর্ণ সাহিত্য বা চিত্রকলার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে।

২. টেকসই জীবনধারা

বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা সব সময় পরিবেশবান্ধব ছিল। বর্তমানে, মিনিমালিজমকে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কমপোস্টিং, প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাঁথার থলি ব্যবহার ইত্যাদি বাংলার মানুষের সহজ জীবনধারার অংশ।

৩. প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মিনিমালিজম

সোশ্যাল মিডিয়া বা স্মার্টফোনের জগতে বাঙালির একাংশ ডিজিটাল মিনিমালিজমের ধারণা গ্রহণ করছে। অপ্রয়োজনীয় স্ক্রোলিং বা অ্যাপ ব্যবহার ছেড়ে তারা সময় এবং শক্তিকে সৃজনশীল কাজে নিয়োজিত করছে।

বাংলা মিনিমালিজমের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ

চ্যালেঞ্জ:

1. ভোগবাদী সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাব।

2. শহরের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় সরলতার অভাব।

3. ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা সংরক্ষণের প্রতি কম মনোযোগ।

সম্ভাবনা:

1. বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

2. বিশ্বব্যাপী মিনিমালিজম আন্দোলনে বাংলার অনুপ্রেরণা যোগানো।

3. পরিবেশ রক্ষায় সহজ-সরল জীবনযাত্রার মডেল তৈরি করা।

উপসংহার

বাংলা মিনিমালিজম শুধুমাত্র একটি জীবনধারা নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতির মূলে থাকা একটি চিরন্তন দর্শন। অতীতের সরল জীবনযাত্রা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান এবং আধুনিক মিনিমালিজমের ধারণা একত্রিত করে বাঙালিরা এমন এক জীবনযাত্রা বেছে নিতে পারে যা তাদের আনন্দময় এবং টেকসই জীবনের পথপ্রদর্শক হবে।

Bengali Calligraphy in the Digital Age: Modern ways of preserving Bengali script.

শিরোনাম: ডিজিটাল যুগে বাংলা ক্যালিগ্রাফি: বাংলা লিপি সংরক্ষণের আধুনিক পন্থা

ভূমিকা

বাংলা লিপি শুধুমাত্র একটি ভাষার বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম সঙ্গী। একসময় হাতে লেখা ক্যালিগ্রাফি ছিল শিল্পের এক উৎকর্ষ, যা আমাদের সাহিত্যিক এবং চিত্রকরদের এক অসামান্য পরিচিতি এনে দিয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কাগজের ব্যবহার কমে গিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফির নতুন পথ তৈরি হয়েছে। আজকের এই আলোচনায় আমরা জানব কীভাবে ডিজিটাল যুগে বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিকে রয়েছে এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।
বাংলা ক্যালিগ্রাফির ইতিহাস

প্রাচীন বাংলা লিপি:
বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছিল প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি থেকে। পাল রাজবংশের সময়ে বাংলা লিপি তার নিজস্ব স্বকীয়তা অর্জন করে।

মধ্যযুগের বাংলা ক্যালিগ্রাফি:
কাব্যগ্রন্থের পাতায়, মন্দিরের প্রাচীরে, এবং তাম্রফলকে ক্যালিগ্রাফির দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। সেকালের হাতে লেখা পুঁথি এবং কাব্য ছিল ক্যালিগ্রাফির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

আধুনিক যুগের সূচনা:
ছাপাখানার আগমনের পরেও বাংলা হাতে লেখা লিপি তার গুরুত্ব হারায়নি।

ডিজিটাল যুগে বাংলা ক্যালিগ্রাফি

কম্পিউটার ও টাইপোগ্রাফি:
ফন্ট ডিজাইনের ক্ষেত্রে ইউনিকোড ব্যবহারের ফলে বাংলা লিপির ডিজিটাল রূপান্তর সহজ হয়েছে। অনেক ডিজাইনার এবং প্রযুক্তিবিদ আজ নতুন নতুন ফন্ট তৈরি করছেন, যা ক্যালিগ্রাফির সৃজনশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

গ্রাফিক ডিজাইন সফটওয়্যার:
অ্যাডোব ইলাস্ট্রেটর, কোরেলড্র, এবং প্রোক্রিয়েটের মতো সফটওয়্যার বাংলা ক্যালিগ্রাফি ডিজাইন করার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে।

বাংলা ক্যালিগ্রাফির আধুনিক পদ্ধতি

1. ডিজিটাল ফন্ট:
ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলা ক্যালিগ্রাফি জনপ্রিয় করার অন্যতম পদ্ধতি হল বাংলা ফন্ট ডিজাইন। উদাহরণস্বরূপ, "শোভা," "আনন্দ," এবং "অভ্র" ফন্টগুলি ক্যালিগ্রাফির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

2. ইলেকট্রনিক পেন ও ট্যাবলেট:
ডিজিটাল পেন এবং ট্যাবলেটের সাহায্যে এখন হাতে লেখা ক্যালিগ্রাফি সহজে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করা যায়।


3. অনলাইন প্ল্যাটফর্ম:
বাংলা ক্যালিগ্রাফির প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্লগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলা ক্যালিগ্রাফি সংরক্ষণে উদ্যোগ

শিক্ষার ক্ষেত্রে উদ্যোগ:
বাংলা ক্যালিগ্রাফি সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য স্কুল-কলেজে ক্যালিগ্রাফি শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আজ ক্যালিগ্রাফি এবং টাইপোগ্রাফি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে।

সরকারি এবং বেসরকারি সহায়তা:
বাংলা লিপি ও ক্যালিগ্রাফি সংরক্ষণের জন্য সরকারি অনুদান এবং বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা:
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-এর মতো প্রতিষ্ঠান বাংলা লিপির প্রদর্শনী এবং কর্মশালা আয়োজন করতে পারে।

ডিজিটাল সংরক্ষণ:
বাংলা ক্যালিগ্রাফির ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখতে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লিপি নিয়ে যারা কাজ করেন:

লিপি নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কাজের ধরণ ভিন্ন ভিন্ন দেখা যায়। কেউ লিপির প্রাচীন পাঠোদ্ধারে জীবন কাটিয়ে দেন। কেউ নতুন লিপি তৈরির কাজ করেন, যাকে লিপিকার(Calligrapher/Calligraphist) বলা হয়। আবার লিপি নিয়ে শিল্পকলা করেন যিনি, তাকে লিপিশিল্পী(Calligraphy Artist) বলে।
প্রত্নতত্ত্বের সাথে শিলালিপির পাঠোদ্ধার(decipher) বিষয়টি জড়িত। ছাপাখানা, বই হাতে লেখা, প্রচ্ছদ, বই অলঙ্করণ প্রভৃতির সাথে নতুন লিপি বা প্রচলিত লিপির নতুন সংস্করণ করেন লিপিকার।
আর শিল্পকলায় লিপিকে অনুসঙ্গ করে কিংবা লিপি দিয়েই শিল্পকর্ম করেন লিপিশিল্পীরা। আমাদের ঢাকার চারুকলায় প্রাচ্যকলা বিভাগে এ বিষয়ে তালিম দেয়া হয়।
তবে অধিকাংশ ভাষার লিপি দিয়ে এখন আর শিল্পকলার প্রবাহমান ধারা লক্ষ্য করা যায় না। এক্ষেত্রে চীনা ও জাপান বা কোরীয় লিপি চিত্রের অনুসঙ্গ হিসেবে এখনও টিকে আছে। আর আরবি লিপি নিজেই একটি জীবন্ত শিল্পকলা হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ধারা এবং আধুনিক শিল্পকলা হিসেবে প্রবহমান।

বাংলা ভাষা লিখতে বিভিন্ন লিপির ব্যবহার

এ অঞ্চলে মুসলিম ও ইংরেজ আমলে আরবি, ফারসি বা উর্দু হরফে বাংলা লেখা ছাড়াও সিলেটি, নাগরি, কায়থি, উড়িয়া, নেওয়ারি, রোমান ও আসামি লিপিতে বাংলা গ্রন্থ রচনার নজির রয়েছে।

মুসলিম আমলে মুসলিম এবং হিন্দু লেখক নির্বিশেষে আরবি-ফার্সি হরফে বাংলা পুথি লিখেছেন। ঢাবির পুথিশালায় রক্ষিত আরবি হরফে লেখা বাংলা ভাষার তেত্রিশটি পুথির কথা জানা যায়। এর অধিকাংশের লিপিকালের হদিস নেই। তবে গবেষকরা বলছেন, এগুলো ১৮ শতকের আগে লেখা। এগুলো সৈয়দ সুলতানসহ অপরাপর মুসলিম লেখকদের রচিত। বাংলা ভাষার পুথি আরবি হরফে কেন লেখা হলো? ইতিহাসে দেখা যায়, সুলতানি আমলে (১২০৪-১৫৭৬ ঈসায়ি) প্রাপ্ত প্রায় সব শিলালিপি বিশুদ্ধ আরবি ভাষা ও উৎকৃষ্ট আরবি ক্যালিগ্রাফিতে করা হয়েছে। সুতরাং সাধারণের কাছে আরবি ভাষা সহজপাঠ্য ও গ্রহণীয় ছিল। এই তেত্রিশটি পুথির প্রায় সবক’টি ধর্মীয় বিষয়ে লেখা। জনগণের চাহিদা মোতাবেক এবং পাঠের সুবিধার্থে এগুলো আরবি হরফে লেখা হয়েছে বলে গবেষকদের ধারণা।

আর ৬০ দশকের শেষ দিকে চট্টগ্রামে জুলফিকার আলি আরবি-ফার্সি (উর্দু) লিপিতে একটি বাংলা পত্রিকাও বের করতেন বলে জানা যায়।

প্রাচীনকাল থেকে বলা যায়, ঈসায়ীপূর্ব তিন হাজার বছর থেকে বাংলা লিপি যাত্রা শুরু করেছে। বলা হয়, বাংলা ভূখণ্ডের বাইরের ব্রাহ্মী লিপি থেকে বাংলা লিপির উৎপত্তি। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা যায়, বাংলা ভূখণ্ডের ভেতর থেকেই এ লিপি ‘নাগরী লিপি’ বা ‘ব্রাহ্মী লিপি’ (যা থেকে নাগরী লিপির জন্ম বলে দাবি করা হয়) থেকে জাত নয়; বরং তা স্বাধীনভাবে উদ্ভুত। আরও জানা যায়, ‘বাংলা’ লিপি ব্রাহ্মণদের হাতে তৈরি নয়, এ দেশের-ই প্রাচীন আমলের সাংখ্য-যোগ-তন্ত্রবাদী বা তাদেরও পূর্বপুরুষদের-ই মহান কীর্তি। অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, আরবি, নাগরি ইত্যাদি বর্ণমালার প্রত্যেকটি হচ্ছে, একেকটি ‘দেবাক্ষর’। প্রত্যেকটি আরবি হরফের যেমন এক একজন অধিপতি ফেরেশতা আছে বলে কল্পনা করা হয়েছে; তেমনি প্রত্যেকটি নাগরি বর্ণেও আছে এক একজন অধিপতি দেবতা। একইভাবে ‘বাংলা’-বর্ণেরও যে প্রতিটিরই এক একটি দেবতা বা দেবী আছে, নতুন এ তথ্যটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাই বর্তমান সময় থেকে অতি নিম্নস্তরের ভারতীয় বাঙালি এবং বাংলাদেশি বাঙালিরা (মুসলিম-অমুসলিম-নির্বিশেষে) দাবি করতে পারবে, নাগরি লিপির মতো বাংলা লিপিও ‘দেবাক্ষর’ এবং ‘ধর্মাক্ষর’ও বটে। আর তা ব্রাহ্মণদের নয়; তাদের-ই প্রায় তিন হাজার বছর আগেকার পূর্বপুরুষের অবদান।

আজকের আলোচনা এ পর্যন্ত। সবাইকে বাংলা হরফের ক্যালিগ্রাফি ভুবনে স্বাগতম।

বাংলা ক্যালিগ্রাফির চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা

চ্যালেঞ্জ:

1. ডিজিটাল মাধ্যমের আগ্রাসনে হাতে লেখা ক্যালিগ্রাফি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

2. বাংলা ফন্ট ডিজাইনে বৈচিত্র্যের অভাব এখনও একটি বড় সমস্যা।

3. ক্যালিগ্রাফি শেখানোর জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং প্ল্যাটফর্মের অভাব।

সম্ভাবনা:

1. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্যালিগ্রাফি শেখা আরও সহজ হয়েছে।

2. সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে তরুণ প্রজন্ম বাংলা ক্যালিগ্রাফিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

3. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলা ক্যালিগ্রাফি তুলে ধরার সুযোগ বেড়েছে।

উপসংহার

বাংলা ক্যালিগ্রাফি আমাদের ভাষা এবং সংস্কৃতির অন্যতম ধন। ডিজিটাল যুগে বাংলা লিপি নতুন রূপে ফিরে এসেছে, যা আমাদের ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সেতুবন্ধন তৈরি করছে। যদিও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও ক্যালিগ্রাফি সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য সঠিক উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলা লিপি তার গৌরবময় পরিচয় ধরে রাখতে সক্ষম হবে।







Bengali Parents and Their Career Advice: Hilarious comparisons.

শিরোনাম: বাঙালি বাবা-মায়ের পেশা নিয়ে পরামর্শ:  তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি

ভূমিকা

বাঙালি বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের ভবিষ্যৎ মানে শুধু ‘ভাল চাকরি’ আর ‘নিরাপদ জীবন’। জীবনের প্রত্যেক ধাপে তাঁরা সন্তানের ‘মঙ্গল’ চান, তবে সেই মঙ্গলের সংজ্ঞা কখনো কখনো এমন মজার হয় যে, তা নিয়ে হাসির রোল পড়ে। বাবা-মায়ের ‘তুলনা’ রোগ, বিশেষ করে প্রতিবেশীর ছেলেমেয়ের সঙ্গে, বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আজকের এই আলোচনায় আমরা জানব বাঙালি অভিভাবকদের সেই চিরকালীন পেশাগত পরামর্শ আর তাদের মজার তুলনামূলক চিন্তাভাবনা।
চিরন্তন ক্যারিয়ার পরামর্শ

বাঙালি বাবা-মায়ের কাছে পেশা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু চিরাচরিত আদর্শ পছন্দ থাকে। যেমন:

1. ডাক্তার হতেই হবে:
ডাক্তারি পেশা বাঙালির কাছে ‘সবচেয়ে নিরাপদ’ এবং ‘সম্মানজনক’ পেশা। বাড়ির বড়দের ভাষ্য, "ডাক্তার হলে কোনও দিন পেটের ভাত কমবে না।"
নিট পরীক্ষাতে পাস না করলে বাবা মা এর কথা সারা জীবন শোনার জন্যে প্রস্তুত হয়ে থাকতে হবে।ওনারা ভুলেই যাবেন যে আমরা পারিনি বলে আমাদের মানসিক অবস্থা কীরকম,কিন্তু বাবা মা সমাজে কি বলবে এই নিয়ে বেশি চিন্তিত।

2. ইঞ্জিনিয়ারিং না করলে জীবন বৃথা:
"তোমার পাশের বাড়ির মণি ছেলেটা আইআইটি পড়ছে, আর তুমি কি করবে? গল্প লিখে পেট চালাবে?" এমন কথা শুনতে শুনতে বাঙালি সন্তানদের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে হয়।পরীক্ষা খারাপ হলে আর IIT না পেলে তো আর রক্ষা নেই।

3. সরকারি চাকরি:
সরকারি চাকরির সোনার হরিণ ধরতে বাবা-মায়ের প্রাণপাত উৎসাহ। এই চাকরির সুবিধার তালিকা শুনলে বোঝা যায়, এটি বাঙালির কাছে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ

বাঙালি বাবা-মায়ের তুলনা ছাড়া সন্তানের পেশা নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ।

1. প্রতিবেশীর ছেলে-মেয়ে:
"ওদের ছেলে তো এখন ইউএসএ-তে চাকরি করছে। তুমি কী করছো?"

2. মামার ছেলে বা পিসির মেয়ে:
"তোমার মামার মেয়ে এমবিএ করছে, আর তুমি সারাদিন ফোনে ঝুলে আছো।"

আধুনিক যুগে পেশা নিয়ে চিন্তাভাবনা

যদিও আধুনিক বাবা-মা কিছুটা উদার মনোভাব পোষণ করছেন, কিন্তু এমন পেশা বেছে নিলে যা তাঁদের ধারার বাইরে, তখন শুরু হয় আরও মজার সব উপদেশ:

1. "ফটোগ্রাফি করে পেট চলবে?"
2. "লেখালিখি করে কেউ টাকা কামায়?"
3. "মডেলিং মানে ভবিষ্যৎ শেষ।"

মজার ঘটনা ও উদাহরণ

একটি ঘটনা:
"তোমার পাশের বাড়ির মেয়ে তো চাকরির পাশাপাশি সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর তুমি সারাদিন সিরিজ দেখে কাটাও।"

একটি বাচ্চার জবাব:
"আমি যেটা করতে ভালোবাসি সেটাই করব, আর প্রতিবেশীর মেয়ে আমার জীবন বাঁচাবে না।"

সামাজিক চাপ এবং মানসিক প্রভাব

এই তুলনা এবং চাপে পড়ে অনেক সন্তান নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী পেশা বেছে নিতে পারেন না। এর ফলে অনেক সময় মানসিক চাপ, হতাশা, এবং স্বপ্ন পূরণ না করার দুঃখ থেকে যায়।

বদলানো সময় ও বাবা-মায়ের মনোভাব

যদিও এখন অনেক বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের পছন্দকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, কিন্তু তবুও একটা বড় অংশ এখনও নিজেদের পুরনো চিন্তাধারার বাইরে আসতে পারেনি।

উপসংহার

বাঙালি বাবা-মায়ের পেশা নিয়ে পরামর্শ কখনও কৌতুকের, কখনও চাপের, আবার কখনও অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও তাঁদের উদ্দেশ্য ভালো, কিন্তু তাঁদের তুলনা রোগ আর কৌতূহল মাঝে মাঝে এতটাই মজার যে, তা নিয়ে হাসি চেপে রাখা যায় না।

Football Fandom in Bengal: Mohon Bagan vs. East Bengal rivalry.

 বাংলার ফুটবল উন্মাদনা: মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ভূমিকা
বাংলার ফুটবল মানে আবেগ, উন্মাদনা, এবং দুই কিংবদন্তি দলের চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা – মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল। এই দুই ক্লাব শুধু ফুটবল দলের চেয়ে বেশি; এটি বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানে ফুটবল মানে খেলার চেয়েও বেশি, এটি গর্বের লড়াই। আজ আমরা জানব মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল দ্বৈরথের ইতিহাস, সাফল্য, এবং অনুরাগীদের পাগলামি।
মোহনবাগানের ইতিহাস

মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৯ সালে। এটি শুধুমাত্র একটি ফুটবল ক্লাব নয়, ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রামের এক প্রতীক। ১৯১১ সালে মোহনবাগান ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জিতে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ দলকে হারায়, যা ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা ছিল। সেই দিনের পর থেকে মোহনবাগান হয়ে ওঠে প্রতিটি বাঙালির গর্ব।মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবটি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত একটি পেশাদার ফুটবল ক্লাব। ক্লাবটি ১৮৮৯ সালে মোহনবাগান স্পোর্টিং ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি ভারত ও এশিয়ার প্রাচীনতম ক্লাবগুলোর মধ্যে একটি।১৯১১ সালে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের বিপক্ষে জয় ক্লাবটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। সর্ব ভারতীয় পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম মোহনবাগান ব্রিটিশ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চ্যাম্পিয়নশিপ জয়লাভ করেছে এবং এই জয় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল। মোহনবাগান ১৯৯৬ সালে ভারতের প্রথম ঘরোয়া লীগ জাতীয় ফুটবল লিগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।মোহনবাগান পাঁচটি শিরোপা জয় করে, যার মধ্যে তিনটি এনএফএল এবং দুটি আই-লিগ শিরোপা রয়েছে।ক্লাবটি ভারতের প্রাক্তন ঘরোয়া কাপ প্রতিযোগিতা ফেডারেশন কাপের সবচেয়ে সফল ক্লাব, যারা সর্বমোট ১৪টি শিরোপা জয়লাভ করেছে। এছাড়াও ক্লাবটি স্থানীয় ৩০ বার কলকাতা ফুটবল লিগের শিরোপা জয়লাভ করেছে।২০২২-২৩ সালে দলটি প্রথম বারের মতো আই এস এল প্লে অফ বিজয়ী হয়।
ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস

ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের জন্ম ১৯২০ সালে। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের আবেগ এবং গর্ব ছিল এই ক্লাব। এই দল একদিকে পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করেছে, অন্যদিকে বাংলার ফুটবলের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের "লাল-হলুদ" রঙ তার সমর্থকদের হৃদয়ে চিরকালীন জায়গা করে নিয়েছে।
২৮ শে জুলাই ১৯২০ সালে কোচবিহার কাপের একটি ম্যাচে মোহনবাগান ও জোড়াবাগান ক্লাব পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। সেই ম্যাচে জোড়াবাগান অন্তিম দলে এক অজানা কারণে তাদের ডিফেন্ডার শৈলেশ বসুকে না নিয়েই মাঠে টিম নামায়। দলের তৎকালীন সহ-সভাপতি সুরেশ চৌধুরী দলের কর্মকর্তাদের কাছে শৈলেশ বসুকে দলে না নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করেন এবং শৈলেশ বসুকে দলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তার কথা রাখা হয়নি। তিনি ও শৈলেশ বসু বুঝতে পারেন শৈলেশ বসু পূর্ববঙ্গীয় হওয়ার কারণেই বিদ্বেষ বসতই তাকে দলে নেওয়া হয় নি। এরপরই সুরেশ চৌধুরী, রাজা মন্মথ নাথ চৌধুরী, রমেশ চন্দ্র সেন, অরবিন্দ ঘোষকে নিয়ে ক্লাব ত্যাগ করেন এবং বাঙাল (পূর্ববঙ্গীয়) ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিয়ে তিনদিনের মধ্যে ১লা আগষ্ট ১৯২০ সালে ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক ক্লাব হিসাবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন।

সারদারঞ্জন রায় নব প্রতিষ্ঠিত ক্লাবের প্রথম সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, অন্যদিকে সুরেশ চন্দ্র চৌধুরী ও তড়িৎ ভূষণ রায় ক্লাবের প্রথম যুগ্ম-সম্পাদকের পদ গ্রহণ করেন। নগেন কালী, এম. তালুকদার, বি. সেন, এন. গোঁসাই, গোষ্ঠ পাল, পি. বর্ধন, এস. ঠাকুর, জে. মুখার্জী, রমেশ চন্দ্র সেন, এস. বসু, সি. বসু, এ. রায় এবং এ. ব্যানার্জী ক্লাবের প্রথম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ভারতের কলকাতাস্থিত, শতবর্ষ প্রাচীন পেশাদার ফুটবল ক্লাব (প্রধানত), এছাড়াও অন্যান্য ক্রিয়া বিভাগে ক্লাবটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। পূর্ববঙ্গের বাঙালি জাতির ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিয়ে ১৯২০ সালের ১লা আগষ্ট সুরেশচন্দ্র চৌধুরী জোড়াবাগানের নিমতলা ঘাট স্ট্রিটের তার বাড়িতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২২ সালে ভারতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভ্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ১৯২৪ সালে কলকাতা ফুটবল লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ১৯৪২ সালে সর্বপ্রথম লীগ জয় লাভ করে এবং বর্তমানে রেকর্ড সংখ্যক ৩৯টি লীগ জয় করে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে। ইস্টবেঙ্গল জাতীয় লিগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং তিন বার জাতীয় লিগ জয় করেছে। এছাড়াও ৮ বার ফেডারেশন কাপ, তিনবার সুপার কাপ, রেকর্ড সংখ্যক ২৯ বার আইএফএ শিল্ড ও রেকর্ড সংখ্যক ১৬ বার ডুরান্ড কাপ জয় করেছে।
প্রথম ডার্বি: ইতিহাসের সূচনা

১৯২৫ সালে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল প্রথমবার মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচ থেকেই ডার্বির সূচনা। ম্যাচটি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল যে এটি দ্রুত বাংলার ফুটবলের পরিচয় হয়ে ওঠে।
প্রথম আনুষ্ঠানিক ডার্বি
সম্পাদনা
কলকাতা ফুটবল লিগ
২৮ মে ১৯২৫
১২:০০ আইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)
ইস্টবেঙ্গল ১–০ মোহনবাগান
নেপাল চক্রবর্তী গোল প্রতিবেদন 
ক্যালকাটা গ্রাউন্ড (বর্তমানে মোহনবাগান মাঠ), ক্যালকাটা
রেফারি: সি আর ক্লেটন

১৯২৫-এ প্রথমবার দুদল মুখোমুখি হয়েছিল৷ মোনা দত্তের নেতৃত্বে ১-০ ম্যাচ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল৷ নেপাল চক্রবর্তী একমাত্র গোলটি করে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ছিলেন৷

১৯৬০-এর দশকে মোহনবাগানের জন্য সুবর্ণ সময়টি প্রমাণিত হয় এবং এটি মারিনার জন্য নিখুঁতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিমধ্যে লিগ জেতার পর, মোহন বগনের তারপর আইএফএ শিল্ড ফাইনাল তাদের নিজস্ব মাঠে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত করে। ৩-১ গোলে উদ্দীপক কোচ অমল দত্তের নিয়োগে বিপ্লবী ৪-২-৪ গঠনের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
ডার্বি ম্যাচের বৈশিষ্ট্য

১. উন্মাদনা ও উত্তেজনা: প্রতিটি মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের দিন কলকাতা যেন ফুটবলের মক্কা হয়ে ওঠে।
২. সমর্থকদের পাগলামি: মোহনবাগানের "সবুজ-মেরুন" এবং ইস্টবেঙ্গলের "লাল-হলুদ" পতাকায় সেজে ওঠে পুরো শহর।
৩. স্টেডিয়ামের পরিবেশ: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন কিংবা পূর্বের ময়দান, ভক্তদের চিৎকার আর ঢাকের শব্দ মাঠে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

ডার্বির পরিসংখ্যান

ম্যাচ সংখ্যা: ৩৫০+ (অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল মিলিয়ে)

মোহনবাগানের জয়: ১২০+

ইস্টবেঙ্গলের জয়: ১৩০+

ড্র: ১০০+

মাঠের বাইরের রাজনীতি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ডার্বির উত্তেজনা শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। দুই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক, এবং সাংস্কৃতিক মতাদর্শের লড়াই প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

১. পশ্চিমবঙ্গ বনাম পূর্ববঙ্গ: ইস্টবেঙ্গলকে পূর্ববঙ্গের ক্লাব হিসেবে এবং মোহনবাগানকে পশ্চিমবঙ্গের ক্লাব হিসেবে দেখা হয়।
২. অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতীক: মোহনবাগানকে অভিজাত এবং ইস্টবেঙ্গলকে উদ্বাস্তুদের ক্লাব হিসেবে মনে করা হয়।
ডার্বির আইকনিক মুহূর্ত

১. ১৯৭৫ আইএফএ শিল্ড ফাইনাল: ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানকে ৫-০ গোলে হারায়, যা এখনও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।
২. ১৯৯৭ ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনাল: ১ লক্ষ ৩১ হাজার দর্শক নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যাচ।
৩. ২০১৯ আই লিগ ডার্বি: ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের শেষ বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আই লিগে।
প্রতিবাদের ডার্বি: ফের একসঙ্গে আরজিকর কাণ্ডের প্রতিবাদে একসঙ্গে ঘটি বাঙাল

আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে উল্টোডাঙা থেকে হাডকো মোড় পর্যন্ত ‘মানববন্ধন’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। অনুরূপ কর্মসূচি ছিল রুবি মোড় থেকে বেলেঘাটা বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত।মাঠের লড়াই ভুলিয়ে দিয়েছিল আরজি করের ঘটনা। চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় বিচার চেয়ে এক সুরে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা। শনিবার যুবভারতীতে আইএসএলের ম্যাচে মোহন-ইস্ট দ্বৈরথ শুরু হওয়ার আগে প্রতিবাদের সেই যৌথবদ্ধ ছবি ফের ধরা পড়বে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। প্রতিবাদের সেই ছবি ধরা পড়লও। তবে স্থানীয়দের একাংশের কথায়, এ বার প্রতিবাদ তেমন জমল না। গত অগস্ট মাসে ডার্বি বাতিল পরবর্তী প্রতিবাদকে মাথায় রাখলে এই বৈপরীত্যটা চোখে পড়তে বাধ্য।আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে একাধিক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। উল্টোডাঙা থেকে হাডকো মোড় পর্যন্ত ‘মানববন্ধন’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। অনুরূপ কর্মসূচি ছিল রুবি মোড় থেকে বেলেঘাটা বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত। যুবভারতীর সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন সিনিয়র চিকিৎসকেরাও। খেলা শুরু আধ ঘণ্টা আগে অবশ্য দেখা গেল রুবি মোড়র ‘মানববন্ধন’ কর্মসূচিতে জনা দেড়শো লোক জড়ো হয়েছেন। লোকবলের অভাবেই পরিকল্পনা মোতাবেক কর্মসূচিটি যুবভারতী অবধি নিয়ে যাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।

উল্টোডাঙায় অবশ্য মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের কয়েক জন সমর্থককে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। সেখানে দুই দলের পতাকা নিয়ে কমবেশি ৫০ জন জড়ো হয়েছিলেন। বাইপাসের ধারে কয়েকটি ম্যাটাডরে কয়েক জন সমর্থককে ‘বিচার চাই’ শিরোনাম-সহ ব্যানার এবং টিফো হাতে দেখা যায়।সেই সময় ডার্বি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যের শাসকদলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছিল। শহরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সেই সময় বিধাননগর পুলিশের তরফে অবশ্য যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, বিভিন্ন জায়গায় এত পরিমাণে পুলিশকর্মী দেওয়া হয়েছে যে, ডার্বির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন সম্ভব নয়।
সমর্থকদের ভাষায় ফুটবল

মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তপ্ত তর্ক থেকে শুরু করে গালাগালি পর্যন্ত সবই ডার্বির আগে এবং পরে দেখা যায়। এ যেন বাংলার "এল ক্লাসিকো।"

ফুটবলের ভবিষ্যৎ: আইএসএল এবং নতুন প্রজন্ম

আইএসএল-এ মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের অংশগ্রহণ ডার্বির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নতুন প্রজন্মের সমর্থকরা এই দুই ক্লাবের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
উপসংহার

মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল ফুটবল নয়; এটি বাংলার আবেগ, সংস্কৃতি, এবং ইতিহাসের অঙ্গ। এই দুই ক্লাব ছাড়া বাংলা ফুটবলের কল্পনা করা অসম্ভব।

Friday, November 29, 2024

Famous Bengali Revolutionaries: Their lives and sacrifices.

বিখ্যাত বাঙালি বিপ্লবীরা: তাদের জীবন ও আত্মত্যাগ

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বাঙালি বিপ্লবীদের অবদান অনস্বীকার্য। এই বীর যোদ্ধারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন জাতির মুক্তির জন্য। তাঁদের বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং আদর্শ আজও আমাদের প্রেরণার উৎস। এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব সেইসব বিখ্যাত বাঙালি বিপ্লবীদের জীবন ও তাঁদের অনন্য আত্মত্যাগ নিয়ে।
বিপ্লবের ভূমিকা: বাঙালির অগ্রগণ্যতা

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি বিপ্লবীরা ছিলেন অগ্রণী। ব্রিটিশ শাসনের শোষণ থেকে মুক্তির জন্য তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে চিন্তাধারার বিপ্লব পর্যন্ত নানান পথ অবলম্বন করেছেন। যুগান্তর, অনুশীলন সমিতি, এবং ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি প্রভৃতি সংগঠন গড়ে তাঁরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা করেন।

বিপ্লবীদের জীবন ও আত্মত্যাগ

ক্ষুদিরাম বসু (৩ ডিসেম্বর ১৮৮৯ — ১১ আগস্ট ১৯০৮):

 ক্ষুদিরাম বসু ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বকনিষ্ঠ শহিদ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা বিস্ফোরণ করেন। যদিও পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং তিনি ধরা পড়েন, তবু তাঁর ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময়ের সাহসিকতা জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
ক্ষুদিরাম প্রফুল্ল চাকির সঙ্গে মিলে গাড়িতে ব্রিটিশ বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড আছেন ভেবে তাকে গুপ্তহত্যা করার জন্যে বোমা ছুঁড়েছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড অন্য একটা গাড়িতে বসেছিলেন, যে ঘটনার ফলে দুজন ব্রিটিশ মহিলার মৃত্যু হয়, যারা ছিলেন মিসেস কেনেডি ও তার কন্যা। প্রফুল্ল চাকি গ্রেপ্তারের আগেই আত্মহত্যা করেন। ক্ষুদিরাম গ্রেপ্তার হন। দুজন মহিলাকে হত্যা করার জন্যে তাঁর বিচার হয় এবং চূড়ান্তভাবে তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়।

ফাঁসি হওয়ার সময় ক্ষুদিরামের বয়স ছিল ১৮ বছর, ৭ মাস এবং ১১ দিন, যেটা তাকে ভারতের কনিষ্ঠতম ভারতের বিপ্লবী অভিধায় অভিষিক্ত করেছিল। বাল গঙ্গাধর তিলক, তার সংবাদপত্র কেশরীতে দুজন নবীন যুবককে সমর্থন করে আওয়াজ তোলেন অবিলম্বে স্বরাজ চাই। যার ফল হয় অবিলম্বে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার দেশদ্রোহিতার অপরাধে তিলককে গ্রেপ্তার করে।


নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু (২৩ জানুয়ারি ১৮৯৭)
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় কিংবদন্তি নেতা। ভারতের স্বাধীনতা-অর্জন আন্দোলনে তিনি হলেন এক অতি-উজ্জ্বল ও মহান চরিত্র, যিনি নির্দ্বিধভাবে এই মহাসংগ্রামে নিজের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি নেতাজি নামে সমধিক পরিচিত। সুভাষচন্দ্র বসু পরপর দু’বার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু, মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে আদর্শগত সংঘাত, কংগ্রেসের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা এবং বিরুদ্ধ-মত প্রকাশ করার জন্য তাকে পদত্যাগ করতে হয়।ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে এগারো বার কারারুদ্ধ করে। তাঁর চির-অমর উক্তি— “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।” দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরেও তাঁর মতাদর্শের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি; বরং এই যুদ্ধে ব্রিটিশদের দুর্বলতাকে সুবিধা আদায়ের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন। যুদ্ধের সূচনালগ্নে তিনি লুকিয়ে ভারত ত্যাগ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন, জার্মানি ও জাপান ভ্রমণ করেন ভারতে ব্রিটিশদের আক্রমণ করার জন্য সহযোগিতা লাভের উদ্দেশ্যে। জাপানিদের সহযোগিতায় তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ পুনর্গঠন করেন এবং পরে তিনি নেতৃত্ব প্রদান করেন। এই বাহিনীর সৈনিকেরা ছিলেন মূলত ভারতীয় যুদ্ধবন্দি এবং ব্রিটিশ মালয়, সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে কর্মরত মজুর। জাপানের আর্থিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তায় তিনি নির্বাসিত আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠা করেন এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্বদান করে ব্রিটিশ মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে ইম্ফল ও ব্রহ্মদেশে (বর্তমান মায়ানমার) যুদ্ধ পরিচালনা করেন।ভারতের স্বাধীনতার জন্য ওনার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বিনয়, বাদল, দীনেশ

কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণের ঘটনা আজও এক গৌরবময় অধ্যায়। ব্রিটিশ পুলিশ কমিশনার সিম্পসনের উপর আক্রমণ করে তাঁরা প্রমাণ করেছিলেন, বাঙালি বিপ্লবীরা শাসকের শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পিছপা হবেন না।
১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলের সক্রিয় সদস্য বিপ্লবী বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং-এ প্রবেশ করে কারা বিভাগের ইনস্পেকটর জেনারেল সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন এবং তাদের আক্রমণে একাধিক উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মচারী আহত হন। এরপর রাইটার্স বিল্ডিং-এর অলিন্দে লালবাজার থেকে আসা সশস্ত্র পুলিশের বিশাল বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবী বিনয়-বাদল-দীনেশের যুদ্ধ শুরু হয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই যুদ্ধ ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ নামে খ্যাত।

বিনয় বসু আত্মহত্যা করেন ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে।

বাদল গুপ্ত সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন।

দীনেশ গুপ্তকে ব্রিটিশরা ফাঁসি দেয়।


সূর্য সেন(22 মার্চ 1894 - 12 জানুয়ারী 1934)

সূর্য সেন, যিনি "মাস্টারদা" নামে পরিচিত, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের নেতৃত্ব দেন। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁকে ধরা পড়ার পর অকথ্য নির্যাতন করে ফাঁসি দেওয়া হয়।সূর্য কুমার সেন যিনি মাস্টারদা নামে সমধিক পরিচিত, তার ডাকনাম ছিল কালু। ভারতবর্ষের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। পূর্ববঙ্গে জন্ম নেওয়া এই বাঙালি বিপ্লবী তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নিজ জীবন বলিদান করেন। সূর্যসেনের বাহিনী কয়েকদিনের জন্যে ব্রিটিশ শাসনকে চট্টগ্রাম এলাকা থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। সূর্য সেনের অন্যতম সাথী বিপ্লবী অনন্ত সিংহের ভাষায় "কে জানতো যে আত্মজিজ্ঞাসায় মগ্ন সেই নিরীহ শিক্ষকের স্থির প্রশান্ত চোখ দুটি একদিন জ্বলে উঠে মাতৃভূমির দ্বিশতাব্দীব্যাপি অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হবে? ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ দমনের জন্য বর্বর অমানুষিক অত্যাচারের প্রতিশোধ, জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ! কে জানতো সেই শীর্ণ বাহু ও ততোধিক শীর্ণ পদযুগলের অধিকারী একদিন সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ রাজশক্তির বৃহত্তম আয়োজনকে ব্যর্থ করে - তার সমস্ত ক্ষমতাকে উপহাস করে বৎসরের পর বৎসর চট্টগ্রামের গ্রামে গ্রামে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে তুলবে?"তার সম্মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়। 

বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়)(৭ ডিসেম্বর ১৮৭৯ – ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫)

"বাঘা যতীন" নামে পরিচিত, তিনি একক হাতে একটি বাঘকে হত্যা করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ব্রিটিশ অস্ত্রাগারে আক্রমণ করেন। ব্রিটিশ সেনার সাথে যুদ্ধে তিনি আহত হন এবং পরবর্তীতে শহিদ হন।ভারতে ব্রিটিশ-বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। বাঘা যতীন ছিলেন বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তর দলের প্রধান নেতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে কলকাতায় জার্মান যুবরাজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তিনি জার্মানি থেকে অস্ত্র ও রসদের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জার্মান প্লট তারই মস্তিষ্কপ্রসূত।

সশস্ত্র সংগ্রামের এক পর্যায়ে সম্মুখ যুদ্ধে উড়িষ্যার বালেশ্বরে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বালাসোর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এন্ট্রান্স পরীক্ষা পাস করার পর তিনি সাঁটলিপি ও টাইপ শেখেন এবং পরবর্তী সময়ে বেঙ্গল গভর্নমেন্টের স্ট্যানোগ্রাফার হিসেবে নিযুক্ত হন। যতীন ছিলেন শক্ত-সমর্থ ও নির্ভীক চিত্তধারী এক যুবক। অচিরেই তিনি একজন আন্তরিক, সৎ, অনুগত এবং পরিশ্রমী কর্মচারী হিসেবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। একই সঙ্গে তার মধ্যে দৃঢ় আত্মমর্যাদা ও জাতীয়তাবোধ জন্মেছিল।
বিপ্লবীদের চিন্তাধারা এবং আদর্শ

বাঙালি বিপ্লবীরা শুধু সশস্ত্র সংগ্রামেই নয়, তাঁদের আদর্শ ও চিন্তাধারায়ও প্রভাবশালী ছিলেন।

বিপ্লবী আন্দোলনে যুবসমাজের ভূমিকা: তাঁরা যুবসমাজকে প্রেরণা দিয়েছিলেন আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের পথে এগিয়ে যেতে।

বন্দেমাতরম ও ভারতের জন্য ত্যাগের প্রতীক: বাঙালি বিপ্লবীদের আদর্শ ছিল ভারতের মাটি, মাতৃভূমি, এবং তার সংস্কৃতি রক্ষা করা।

ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলন: তাঁরা স্বদেশী পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছেন।

তাঁদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য

বাঙালি বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ শুধু স্বাধীনতার পথই সুগম করেনি, জাতির মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাঁরা দেখিয়েছেন, সাহসিকতার মাধ্যমে শাসকের শোষণ ভেঙে ফেলা সম্ভব।

তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আমাদের সমাজে ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

উপসংহার

বাঙালি বিপ্লবীদের জীবন এবং আত্মত্যাগ আমাদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁদের রক্তে রঞ্জিত আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কখনও উপহার নয়, এটি অর্জিত। আজকের প্রজন্মের কাছে তাঁদের জীবন এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা চিরন্তন।

30th Kolkata International Film Festival: A Historic Celebration of Global Cinema

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩০তম সংস্করণ: এক ঐতিহাসিক যাত্রার অঙ্গন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF) এ বছর তার ৩০তম বর্ষে পদ...